** হযরত আবু কাতাদাহ ইবনে রিবঈ (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, আল্লাহ তায়ালা বলিতেছেন, আমি তোমার উম্মতের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করিয়াছি এবং আমি এই দায়িত্ব গ্রহণ করিয়াছি যে, যে ব্যক্তি এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাযকে সময়মত আদায় করিবার এহতেমাম করিয়া আমার নিকট আসিবে আমি তাহাকে বেহেশতে প্রবেশ করাইব। আর যে ব্যক্তি নামাযের এহতেমাম করে নাই তাহার জন্য আমার কোন দায়িত্ব নাই। (ইচ্ছা হইলে মাফ করিব, আর না হয় শাস্তি দিব।) -আবু দাউদ
** হযরত আবদুল্লাহ ইবনে র্কুত (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাযের হিসাব করা হইবে। যদি নামায ঠিক থাকে তবে বাকি সব আমলও ঠিক হইবে। আর যদি নামায খারাপ হইয়া থাকে তবে বাকি আমলও খারাপ হইবে। (তাবারানী, তারগীব)
** হযরত জাবের (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আরয করিল, অমুক ব্যক্তি (রাত্রে) নামায পড়ে আবার সকাল হইতেই চুরি করে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, তাহার নামায অতিসত্বর তাহাকে এই খারাপ কাজ হইতে রুখিয়া দিবে। (বায্যার, মাজমা)
** হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, যে ব্যক্তি আমানতদার নহে সে কামেল ঈমানদার নহে। যাহার অযূ নাই তাহার নামায আদায় হয় নাই। আর যে ব্যক্তি নামায পড়ে না তাহার কোন দ্বীন নাই। দ্বীনের মধ্যে নামাযের মর্যাদা এমন যেমন শরীরের মধ্যে মাথার মর্যাদা। অর্থাৎ মাথা ব্যতীত মানুষ জীবিত থাকিতে পারে না তদ্রুপ নামায ব্যতীত দ্বীন বাকি থাকিতে পারে না। (তাবারানী, তারগীব)
** হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, যদি দ্বিপ্রহরের গরমে জোহরের নামাযের জন্য মসজিদে যাওয়ার ফযীলত লোকেরা জানিত তবে জোহরের নামাযের জন্য দৌড়াইয়া যাইত। আর যদি এশা ও ফজরের নামাযের ফযীলত জানিত তবে (অসুস্থতার দরুন) হামাগুড়ি দিয়া হইলেও এই নামাযের জন্য মসজিদে যাইত। (বোখারী)
** হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, আমার ইচ্ছা হয় যে, কতিপয় যুবককে বলি যে, তাহারা অনেকগুলি লাকড়ি জোগাড় করিয়া আনে। অতপরঃ আমি ঐ সকল লোকদের নিকট যাই যাহারা বিনা ওজরে ঘরে নামায পড়িয়া লয় এবং তাহাদের ঘরগুলিকে জ্বালাইয়া দেই। (আবু দাউদ)
** হযরত আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, মেসওয়াক করিয়া দুই রাকাত পড়া মেসওয়াক ব্যতীত সত্তর রাকাত পড়া হইতে উত্তম। (বাযযার, মাজমায়ে যাওয়ায়েদ)
** হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, যে ব্যক্তি পাবন্দীর সহিত ইস্তেগফার করিতে থাকে আল্লাহ তায়ালা তাহার জন্য প্রত্যেক অসুবিধায় মুক্তির পথ করিয়া দেন। প্রত্যেক দুশ্চিন্তা হইতে নাজাত দান করেন এবং তাহাকে এমন জায়গা হইতে রুজী দান করেন যেখান হইতে তাহার ধারণাও থাকে না। (আবু দাউদ)
** হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) ও হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) তাহারা উভয়ে এই কথার সাক্ষ্য দেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, যে জামাত আল্লাহ তায়ালার যিকিরে মশগুল হয় ফেরেশতাগণ উক্ত জামাতকে ঘিরিয়া লন, রহমত তাহাদিগকে ঢাকিয়া লয়। তাহাদের উপর সকীনা নাযিল হয় এবং আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদের মজলিসে তাহাদের আলোচনা করেন। (মুসলিম)
** হযরত আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, যখন জান্নাতের বাগানের উপর দিয়া অতিক্রম কর তখন খুব চরিয়া লইও। সাহাবা (রাঃ) আরজ করিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, জান্নাতের বাগান কি ? এরশাদ করিলেন, যিকিরের হালকা (বা মজলিস)। (তিরমিযী)
** হযরত হোযাইফা ইবনে ইয়ামান (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, সেই যাতের কসম, যাহার হাতে আমার প্রাণ, তোমরা অবশ্যই আমর বিল মারুফ নাহী আনিল মুনকার (সৎকাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ) করিতে থাক। নতুবা অতিসত্বর আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর আপন আযাব পাঠাইয়া দিবেন। অতঃপর তোমরা দোয়া করিলেও আল্লাহ তায়ালা তোমাদের দোয়া কবুল করিবেন না। (তিরমিযী)
© 2011 Bikrompur Sahittya Parishad, All Rights Reserved | Designed & Developed by Liakot Ali Khan
** হযরত আবদুল্লাহ ইবনে র্কুত (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাযের হিসাব করা হইবে। যদি নামায ঠিক থাকে তবে বাকি সব আমলও ঠিক হইবে। আর যদি নামায খারাপ হইয়া থাকে তবে বাকি আমলও খারাপ হইবে। (তাবারানী, তারগীব)
** হযরত জাবের (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আরয করিল, অমুক ব্যক্তি (রাত্রে) নামায পড়ে আবার সকাল হইতেই চুরি করে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, তাহার নামায অতিসত্বর তাহাকে এই খারাপ কাজ হইতে রুখিয়া দিবে। (বায্যার, মাজমা)
** হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, যে ব্যক্তি আমানতদার নহে সে কামেল ঈমানদার নহে। যাহার অযূ নাই তাহার নামায আদায় হয় নাই। আর যে ব্যক্তি নামায পড়ে না তাহার কোন দ্বীন নাই। দ্বীনের মধ্যে নামাযের মর্যাদা এমন যেমন শরীরের মধ্যে মাথার মর্যাদা। অর্থাৎ মাথা ব্যতীত মানুষ জীবিত থাকিতে পারে না তদ্রুপ নামায ব্যতীত দ্বীন বাকি থাকিতে পারে না। (তাবারানী, তারগীব)
** হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, যদি দ্বিপ্রহরের গরমে জোহরের নামাযের জন্য মসজিদে যাওয়ার ফযীলত লোকেরা জানিত তবে জোহরের নামাযের জন্য দৌড়াইয়া যাইত। আর যদি এশা ও ফজরের নামাযের ফযীলত জানিত তবে (অসুস্থতার দরুন) হামাগুড়ি দিয়া হইলেও এই নামাযের জন্য মসজিদে যাইত। (বোখারী)
** হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, আমার ইচ্ছা হয় যে, কতিপয় যুবককে বলি যে, তাহারা অনেকগুলি লাকড়ি জোগাড় করিয়া আনে। অতপরঃ আমি ঐ সকল লোকদের নিকট যাই যাহারা বিনা ওজরে ঘরে নামায পড়িয়া লয় এবং তাহাদের ঘরগুলিকে জ্বালাইয়া দেই। (আবু দাউদ)
** হযরত আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, মেসওয়াক করিয়া দুই রাকাত পড়া মেসওয়াক ব্যতীত সত্তর রাকাত পড়া হইতে উত্তম। (বাযযার, মাজমায়ে যাওয়ায়েদ)
** হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, যে ব্যক্তি পাবন্দীর সহিত ইস্তেগফার করিতে থাকে আল্লাহ তায়ালা তাহার জন্য প্রত্যেক অসুবিধায় মুক্তির পথ করিয়া দেন। প্রত্যেক দুশ্চিন্তা হইতে নাজাত দান করেন এবং তাহাকে এমন জায়গা হইতে রুজী দান করেন যেখান হইতে তাহার ধারণাও থাকে না। (আবু দাউদ)
** হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) ও হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) তাহারা উভয়ে এই কথার সাক্ষ্য দেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, যে জামাত আল্লাহ তায়ালার যিকিরে মশগুল হয় ফেরেশতাগণ উক্ত জামাতকে ঘিরিয়া লন, রহমত তাহাদিগকে ঢাকিয়া লয়। তাহাদের উপর সকীনা নাযিল হয় এবং আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদের মজলিসে তাহাদের আলোচনা করেন। (মুসলিম)
** হযরত আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, যখন জান্নাতের বাগানের উপর দিয়া অতিক্রম কর তখন খুব চরিয়া লইও। সাহাবা (রাঃ) আরজ করিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, জান্নাতের বাগান কি ? এরশাদ করিলেন, যিকিরের হালকা (বা মজলিস)। (তিরমিযী)
** হযরত হোযাইফা ইবনে ইয়ামান (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, সেই যাতের কসম, যাহার হাতে আমার প্রাণ, তোমরা অবশ্যই আমর বিল মারুফ নাহী আনিল মুনকার (সৎকাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ) করিতে থাক। নতুবা অতিসত্বর আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর আপন আযাব পাঠাইয়া দিবেন। অতঃপর তোমরা দোয়া করিলেও আল্লাহ তায়ালা তোমাদের দোয়া কবুল করিবেন না। (তিরমিযী)
© 2011 Bikrompur Sahittya Parishad, All Rights Reserved | Designed & Developed by Liakot Ali Khan


